জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ৪র্থ বর্ষের ভাইবা বিস্তারিত




৪র্থ বর্ষের ভাইবার বিস্তারিতঃ

ভাইবার জন্য যা যা পড়বেনঃ

•আপনি যেই বিষয়ে অনার্স করছেন তার সম্পর্কে ধারণা নিবেন।

•অনার্স ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষায় যেই ১ মার্কের প্রশ্নগুলো ছিল এগুলো পড়ে যাবেন।

•৪র্থ বর্ষ পরীক্ষায় যে বিষয়ে ভাল পরীক্ষা দিয়েছেন সেই বিষয় ভাল করে পড়ে যাবেন।

•৪র্থ বর্ষের বিষয় গুলোর নাম এবং বিষয় কোড দেখে যাবেন।

•কলেজের প্রিন্সিপাল,ভাইস প্রিন্সিপাল,ডিপার্টমেন্ট প্রধানের নাম এবং ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের নামগুলো জেনে রাখবেন।

•রোল,রেজিঃ নাম্বার এবং পূর্বের ফলাফল জিজ্ঞাস করতে পারে।

•যেহেতু এবার ১০০ মার্কে ভাইভা সময় এবং প্রশ্নের পরিমাণ বেশি হতে পারে।

•শিক্ষক এটা অবশ্যই জিজ্ঞেস করবেন লিখিত পরীক্ষায় কোন বিষয়টা সবথেকে বেশী ভাল হয়েছে এবং সেখান থেকেই বেশী প্রশ্ন করে পারেন। তাই আগাম প্রস্তুতি রাখতে হবে।



মৌখিক পরিক্ষার পূর্বে করনীয়ঃ

•আগের দিন সবরকমের কাগজপত্র যেমন অ্যাডমিট কার্ড, রেজিস্ট্রেশন কার্ড কলম ফাইলে রেখে দিবেন।

•সুন্দর ও পরিপাটি হয়ে সঠিক সময়ে কলেজে উপস্থিত হবেন।

•ছেলেরা অবশ্যই কলেজ কর্তৃক নির্ধারিত পোশাক পরিধান করবেন।পোশাকে যেন অফিশিয়াল একটা ভাব গাম্ভীর্য প্রকাশ পায়।

•মেয়েরা অবশ্যই নির্ধারিত পোশাক পরিধান করে ভাইভা রুমে প্রবেশ করবেন।

•পরীক্ষার হলে এডমিট কার্ড ও রেজিঃকার্ড সাথে আনবেন।




যেসব নিয়ে ভাইবা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবেঃ

•এডমিট
•রেজিষ্ট্রেশন কার্ড
•কলম
•ক্যালকুলেটর
•স্কেল
•প্রয়োজনীয় সকল কাগজ পত্র



কেমন পোশাক পড়তে হবেঃ

•ভাইভা পরীক্ষায় ছেলেদের জন্য ফরমাল পোশাক একরকম অঘোষিত ভাবেই বাধ্যতামূলক।

•মেয়েরা শাড়ি, সালোয়ার, বোরকা পড়ে আসতে পারেন।


•বোরকা পড়ে আসলে পরীক্ষার সময় মুখ খোলা রেখে বোর্ডের কক্ষে প্রবেশ করতে হবে।


প্রশ্ন উত্তরের জন্য প্রস্তুতিঃ

•সাবজেক্ট কোড ও নিজের কোর্স সম্পর্কে পুর্নাঙ্গ ধারনা রাখবেন।

•৪র্থ বর্ষের চুড়ান্ত পরীক্ষার প্রশ্ন বেশি করে পড়বেন।

•ব্যবস্থাপনার মৌলিক বিষয়গুলো অবশ্যই জানতে হবে। সেগুলো একদম মুখস্ত করে রাখতে হবে।

•পারিবারিক যেসব প্রশ্ন করবে সঠিক উত্তর দিবেন।

•কোন অপ্রাঙ্গগিক কথা বলবেন না।

•প্রশ্নের উত্তর না পারলে দুঃখিত বলবেন।

•ভয় পাবেন না সবসময় হাসি খুশি প্রফুল্ল থাকার চেষ্টা করবেন ।

•কোনো প্রশ্নের উত্তর না পারলে ‘আমি পারি না’, ‘আমি পারছি না’ বা ‘জানি না’ এভাবে বলা যাবে না। বলতে হবে ‘দুঃখিত স্যার, উত্তরটা এই মূহুর্তে মনে পড়ছে না।’


ভাইভা বোর্ডে যারা উপস্থিত থাকেন

•আপনার কলেজের ডিপার্টমেন্ট প্রধান।

•জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে অন্য যেকোন কলেজ থেকে একজন শিক্ষক থাকবেন।

•যেই কলেজে পরীক্ষা হবে সেই কলেজের ডিপার্টমেন্ট প্রধান।

•যেই কলেজে পরীক্ষা হবে সেই কলেজের ডিপার্টমেন্টের ২/৩ জন শিক্ষক।



ভাইবা পরীক্ষায় সাধারন নিয়মাবলিঃ

•সবাই সিরিয়াল অনুযায়ী একজন একজন প্রবেশ করবেন।

•রুম থেকে বের হলে হইচই করবেন না।

•যে সব স্যার রুমে তাদের সাথে শালীন এবং নম্র আচরন করবেন।

•হাসি মুখে বিদায় নিয়ে চলে আসবেন।



ভাইবায় এসব জেনে রাখা জরুরিঃ


•ভাইভা বোর্ডে যাওয়ার সময় ভয় না পাওয়া।

•হাসিমুখে ভাইভা বোর্ডের কক্ষে প্রবেশ করা।

•উপস্থিত সবাইকে সালাম দেয়া।

•পারফিউম ব্যবহার না করাই ভালো।

•বসার অনুমতি দিলে বসা।

•কোনোক্রমেই টেবিলে হাত রাখা যাবে না।

•ভাইভার সময় প্রশ্নকর্তার সামনে হাসি খুশি প্রফুল্ল থাকা।

•প্রশ্ন না পারলে ইচ্ছামত না বলে সরি বলায় উত্তম,

•প্রশ্নকর্তার চোখে চোখ রেখে উত্তর দেওয়া।

•প্রশ্ন কর্তার সাথে খারাপ আচারন না করা।

•প্রশ্নকর্তা প্রথমে তোমাকে সকল বিষয় হতে প্রশ্ন করবেন।


•উত্তর বলতে না পারলে তোমাকে প্রশ্নকর্তা প্রশ্ন করবেন তুমি ফাইনাল পরীক্ষায় কোন বিষয়ে ভালো দিয়েছ। সেখান থেকেই তোমাকে প্রশ্ন করবেন।

•সুতরাং পরিক্ষার প্রশ্ন গুলো ভালো করে দেখে নেবে এবং সিরিয়ালে যারা আগে ভাইবা দিয়ে বের হয়েছে তাদের থেকে প্রশ্নের পূর্ব ধারনা পেয়ে যাবে।

•বের হওয়ার সময় মৃদু হাসিতে সালাম দিয়ে বের হওয়া।

যারা ডিপার্টমেন্টের স্যার দের সাথে মোটামুটি যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছিল বা ডিপার্টমেন্টের সক্রিয় ছিল তারা একটু সুবিধা পাবে স্বাভাবিকভাবেই স্যাররা অতিথি শিক্ষকদের কাছে সেই শিক্ষার্থীর সম্পর্কে বলতে পারেন যে ‘স্যার এই ছেলেটা/ মেয়েটা ডিপার্টমেন্টের একজন সক্রিয় শিক্ষার্থী।’


ভাইভা এমন একটা পরীক্ষা যেখানে আপনার উত্তর কতোটা সঠিক তার চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেয়া হয় আপনি কতটা স্বাচ্ছন্দে উত্তরকে উপস্থাপন করছেন।

আশা করি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ৪র্থ বর্ষের ভাইবা / মৌখিক পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসাবে এই পোস্ট আপনাদের অনেক মনোবল বৃদ্ধি করবে।

আপনি যদি উল্লেখ্য সকল নিয়মকানুন ভাইবা বোর্ডে উপস্থাপন করেন তাহলে শতভাগ সফলতা আসবেই।

#30minuteeducation #muktarhossain #nuviva #viva